নিজেকে ইম্প্রুভ করার জন্য যা যা জানা প্রয়োজন।

5 essential self improvement tips

Sharing is Caring!

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

সেল্ফ ইম্প্রুভমেন্ট বা আত্ম-উন্নয়ন একটা জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া এবং “পূর্ণাঙ্গ” সেল্ফ ডেভলপমেন্টের ধারণাটা পুরাই ভুয়া। আমাদের কাটানো প্রত্যেক মুহূর্ত, আমাদের করা প্রত্যেক কাজ, আমাদের পড়া প্রত্যেক শব্দ, হয়তো আমাদের সামনে নিয়ে যায় অথবা পেছনে।

কিন্তু এটা একটা সদা চলমান পক্রিয়া। এবং এখানে মূল লক্ষ্য পরিপূর্ণতা বা সাফল্য অর্জন করা না, বরং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করা। নিজের পদক্ষেপ নিজেকেই নির্ধারণ করা শিখতে হবে। আত্ম-শোধনের এই চলমান পক্রিয়াতে আমাদের এগিয়ে যাওয়া শিখতে হবে এবং শুরুটা হবে জীবনে সবচেয়ে ক্ষুদ্র পরিমাণ পরিবর্তন আনার মাধ্যমে।

উদ্দোক্তা ও ব্যাবসায়ীদের উপর করা কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, যেসব উদ্দোক্তা শূন্য থেকে তাদের ব্যাবসা শুরু করে তাদের সফল হবার সম্ভাবনা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি পাওয়া ব্যবসায়ীদের চাইতে ১৫% বেশি।

আমার পয়েন্ট হচ্ছে, এমন কোনো শর্টকাট নেই যা আমাদের জীবনকে রাতারাতি পাল্টে দিতে পারবে। যদি আপনি একটা লটারিও জিতেন, সেটা কীভাবে ব্যায় করবেন তা যদি আগে থেকে ঠিক না করে রাখেন তাহলে খুব শীঘ্রই শূন্যতে ফেরত আসবেন।

আমাদের আত্মবিকাশের মই বেয়ে উঠতে শিখতে হবে এবং আমাদের ধীরে ধীরে সেটা করতে হবে। এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পদক্ষেপ গুলোকে হয়তো বেশি কিছু মনে হবে না কিন্তু রোজ একটা ছোট্ট পদক্ষেপ নিতে পারলে তা একসময় পার্থক্য গড়ে দিবে। রোজ ৮ গ্লাস পানি পান করা, কৃতজ্ঞতা জানানোর অভ্যাস গড়ে তোলা বা সুন্দর একটা বই পড়া– এরকম পরিবর্তনকে তুচ্ছ মনে হতে পারে কিন্তু সেটাই আমাদের উপরে নিয়ে যাবে।

যখন আমরা জীবনে এই ছোট ছোট পরিবর্তন আনা শুরু করব, প্রত্যেক পরিবর্তন আমাদের মস্তিস্কে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে যা জৈবিকভাবে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা জোগাবে।

এই ৫ সেল্ফ ইম্প্রুভমেন্ট টিপস দিয়ে শুরু করুন:

You can also read: How to Stay Focused and Double Your Productivity?

১) মেন্টর নিযুক্ত করা:

প্রথমে আপনাকে এই বিষয়টা মেনে নিতে হবে যে আপনার মেন্টর পারফেক্ট না। তাই সবকিছুর জন্য তাদেরকে অনুসরণ করা উচিত হবে না।

আপনার মেন্টর এমন কেউ হওয়া উচিত যাকে আপনি সত্যিই সম্মান করেন, এমন এক ব্যক্তিত্ব যেটাকে আপনি শ্রদ্ধা করেন, এমন একজন মানুষ যার মধ্যে ত্রুটি থাকা শর্তেও প্রতিনিয়ত নিজেকে আরো ভালো করার চেষ্টা করে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, আপনার আইডল এমন কেউ হওয়া উচিত যার মতো আপনি হয়ে উঠতে চান এবং এমন কেউ যার মতো হতে পারা অসম্ভব না।

২) সঠিক মূল্যবোধ ও পদ্ধতি বেছে নেওয়া:

কোন মূল্যবোধ ও বিশ্বাসকে গ্রহণ করা উচিত তা কীভাবে বুঝবেন? “সঠিক” শব্দটাকেই কীভাবে সংজ্ঞায়িত করবেন? জীবনে একটা নির্দিষ্ট পক্ষ বেছে নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। তারচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ সঠিক পক্ষটাকে বেছে নেওয়া।

নিজেকে বিচার করার আদর্শ পদ্ধতি এমন হওয়া উচিত যা আমাদের দক্ষতার জন্য গঠনমূলক হয়ে উঠবে।

উদাহরণস্বরূপ: নিজের প্রতি সৎ থাকার অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করা একটা সুন্দর জীবন পদ্ধতি। অথবা, হয়তো দিনের শেষে নিজেকে মূল্যায়ন করা যাতে আমরা নিজের ভুলত্রুটির উপর কাজ করতে পারি।

এরকম আরো অনেক মূল্যবোধ আছে যেগুলো শুরু করা কঠিন কিন্তু একবার শুরু করতে পারলে সেটা আত্মবিকাশের অটুট যাদুমন্ত্র হয়ে উঠে।

A dream does not become reality through magic; it takes sweat, determination, and hard work. ~

Colin Powell,

৩) কঠোর অনুশীলন করা:

আমাদের কোন জিনিসটার উন্নতি ঘটাতে হবে তা একবার জেনে যাবার পর, আমাদের কঠোর অনুশীলন শুরু করতে হবে। এভারেজ হয়ে থেকে গেলে চলবে না আমাদের বেস্ট হতে হবে। যদি এভারেজ হয়ে থেকে যাই তার অর্থ এই হবে যে আমরা যথেষ্ট অনুশীলন করিনি অথবা যথেষ্ট ডেডিকেটেড না। তাই আরো চেষ্টা করুন।

একাধিক এলার্ম সেট করুন, আপনার ভাইবোনকে ঘুষ দিন যেন আপনি নিজের এসাইনমেন্ট শেষ না করা পর্যন্ত তারা আপনাকে বিরক্ত করতেই থাকে, প্রাত্যহিক অনুশীলন শেষ করতে পারলে চকলেট পাবেন বলে নিজেকে প্রলুব্ধ করুন। কঠোর পরিশ্রমের মাঝে আনন্দ খুঁজে বের করুন।

আপনার লক্ষ্যের প্রত্যেক সম্ভাব্য ফলাফল করায়ত্ত না করা পর্যন্ত অনুশীলন করতে থাকুন। যতক্ষণ না সবকিছুকে নিজের সাধ্যের মধ্যে মনে হচ্ছে।

৪) নিজেকে পুরষ্কৃত করুন:

ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন যা এক সপ্তাহে বা এক মাসে অর্জন করা সম্ভব। নিজের সকল শক্তি সেই লক্ষ্য অজর্নের পিছে ব্যয় করুন। আপনি এই কাজগুলো করতে পারেন–

• যখন লক্ষ্যে পৌঁছাবেন, নিজেকে ট্রিট দিন।

• নিজেকে নিজের প্রিয় আইসক্রিমটা কিনে দিন।

• অথবা এতো পরিশ্রম করার ফলে যে মুভিটা দেখার সময় করে উঠতে পারেননি সেটা দেখুন।

এবং এই পক্রিয়ার সবচেয়ে ভালো দিক এটা যে, যখন আপনার বিশাল লক্ষ্যকে এইসব ছোট ছোট লক্ষ্যে ভাগ করবেন, আপনি বুঝতেও পারবেন না, কখন নির্ধারিত লক্ষ্যকে ছাড়িয়ে বহু দূর এগিয়ে গেছেন।

৫) অবিচলিত থাকা:

সর্বশেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, হার মানলে চলবে না। এটাই আসলে মূল কৌশল। যদি কখনো হার না মানার শক্তিকে বস করতে পারেন, তাহলে জীবনে যা চান তাই করতে পারবেন।

কারণ হার না মেনে এগিয়ে যাওয়াটা সবচেয়ে কঠিন কাজ। আপনার লক্ষ্য অর্জনের পিছে নিজের সব আকাঙ্ক্ষা ও সংকল্প নিযুক্ত করুন। খাতা থেকে সকল ব্যাকআপ প্লান কেটে ফেলুন! দ্বিতীয় সুযোগ বলে কিছু নেই। এটাই একমাত্র সুযোগ যেটাকে আপনাকে কাজে লাগাতে হবে। তাই পিছিয়ে গেলে চলবে না!

উপসংহারে:

পরিশেষে, এটা অতোটাও কঠিন না যতোটা মনে হয়। সব আগে আমাদের “পারব না” বলা থামাতে হবে। ছোট থাকতে একটা কবিতা পড়েছিলেন, “পারিবো না এ কথাটি বলিও না আর / একবার না পারিলে দেখো শতবার।” মনে আছে এই কবিতার কথা? কী বললেন? এটা বাচ্চাদের কবিতা? হ্যাঁ, এটা বাচ্চাদের কবিতা কিন্তু এতে এক মহাসত্য অন্তর্নিহিত আছে।

আমরা জীবনে বহুবার ব্যার্থ হবো, আমরা প্রত্যাখ্যানের স্বীকার হবো, জীবনে অনেক ট্রাজেডি আসবে, এবং বহুবার আমাদের হৃদয় ভেঙ্গেচুরে যাবে। জীবন চলার পথে বহুবার মুখ থুবড়ে পড়ব। কিন্ত আমাদের প্রত্যেকবার উঠে দাঁড়াতে হবে। জীবন যতবার আমাদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিবে আমরা ততবার উঠে দাঁড়াব। কারণ আমরা আমাদের ব্যথাকে হারানোর সিদ্ধান্ত নিব। এবং যখন আমরা সকল ঝুঁকিকে বুঝে উঠতে পারব, আমরা লক্ষ্যকে না বরং সেখানে পৌঁছানোর যাত্রাটাকে ভালোবাসতে শুরু করব।

সেল্ফ ইম্প্রুভমেন্টের মাধ্যমে আমরা যে উন্নতি লাভ করব সেটা এসবের সেরা দিক না বরং সেখানে পৌঁছাতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা লাভ করব সেটা। এবং আত্ম-শোধনের সেরা পদ্ধতিটা হচ্ছে নিজের ফিক্স করার বেশি চেষ্টা না করা। আমরা যেমন তেমনভাবেই নিজেদের গ্রহণ করে নিতে হবে এবং এটা বুঝতে হবে যে চেষ্টা করলেই নিজেদের “বেটার ভার্সন” হয়ে উঠতে পারব।

শুধু যদি আমরা সবকিছুর জন্য নিজেদের দোষ দেওয়ার অভ্যাসটা পাল্টাতে পারি, তাহলে আত্মবিকাশের সিঁড়ি বেয়ে উঠার জন্য যে যে গঠনমূলক কাজ করা লাগবে তা পরিষ্কার দেখতে পাব।

গুড লাক!

Leave a Comment

You can also like!